মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ August ২০২১

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের জিনোমিক রিসার্চ গবেষণাগার কর্তৃক ডেঙ্গু ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সিংয়ের তথ্য উম্মোচন।


প্রকাশন তারিখ : 2021-08-29

 

 

প্রেস রিলিস

 

ডেঙ্গু ভাইরাস ফ্লাভিভাইরাস গ্রুপের অন্তর্গত একটি Positive Sense RNA ভাইরাস। ডেঙ্গু ভাইরাসের RNA জিনোমে ১০.৬-১১ কিলোবেজ নিউক্লিয়টাইট থাকে। ভাইরাসটি একটিমাত্র Open leading frame (ORF) থেকে ৩টি Structural Protein C, M, E এবং ৭টি Non-structural Protein NS-1, NS2A, NS2B, NS3, NS4B এবং NS5 প্রোটিন তৈরি হয়। ডেংগু-এর চারটি সেরোটাইপ আছে, যা DENV-1 থেকে DENV-4 মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের ৪টি সেরোটাইপের মধ্যে ৬৫-৭০% এমিনো এসিড সিুকুয়েন্সের মিল আছে।  ভাইরাসটি এডিস মশা দ্বারা বাহিত হয় এবং মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষকে সংক্রমিত করে।  ১৯৬০ সালের পৃথিবীতে প্রথম বারের মত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মশক বাহিত রোগ হল ডেঙ্গু । বর্তমানে প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুর সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে। সারা পৃথিবীতে বার্ষিক সংক্রমণের হার হচ্ছে ৩৯০ মিলিয়ন মানুষ। রোগটি প্রায় ১০০টি দেশে বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশ, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছে। প্রতিবছর বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায় এবং এটি বাংলাদেশে সংক্রমিত রোগের মধ্যে অন্যতম। যদিও বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী চিহ্নিত হয়, তবে ২০০০ সালে প্রথমবারেরমত এই ভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশে মহামারী আকার ধারণ করে। IEDCR-এর গবেষণা অনুযায়ী ২০১৬ সালের পূর্বে  সেরোটাইপ ‍DENV-1 এবং ‍DENV-2 দ্বারা মহামারী সংঘটিত হয়, তখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বাকি ২টি সেরোটাইপ সনাক্ত হয়নি। ২০১৭ সালে DENV-3 প্রথম সনাক্ত হয় এবং ২০১৮ সালে DENV-3 সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং ২০১৯ সালে এটি মহামারী আকার ধারণ করে। DGH-এর স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৯ সালে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ২৯ জনের মৃত্যু হয়।  যদিও ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভাইরাসের ১টি মাত্র নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়, সেখানে সেরোটাইপ-২ সনাক্ত হয়। এবছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮৫৩ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে এবং এদের মধ্যে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এ একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক জিনোমিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই গবেষণাগারটি বাংলাদেশের একমাত্র সুবিধাদি  যেখানে  যে কোন জীবাণুর বিপুল সংখ্যক নমুনার সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করার পাশাপাশি অতিদ্রুত ডাটা এনালাইসিস করে তার ফলাফল প্রকাশ করতে সক্ষম। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, মাননীয় মন্ত্রি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, এর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক ড. মোঃ আফতাব আলী শেখ, চেয়ারম্যান বিসিএসআইআর এর তত্বাবধনায় ২০২০ সালে, দেশে করোনাভাইরাসের সঠিক চিত্র অর্জন করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশের ৮টি বিভাগ হতে করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ১১০০ এর অধিক নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এখন পর্যন্ত ৭৭৮টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ GISAID তে প্রকাশ করা হয়। এই বছর জুলাই থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বাংলাদেশ ডেঙ্গুর ব্যাপকতা নির্ধারণের জন্য বিসিএসআইআর এর  চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আফতাব আলী শেখ মহোদয়ের  নির্দেশনায় ডেঙ্গু ভাইরাসের নমুনার জিনোম সিকুয়েন্সিংএর কাযর্ক্রম হাতে নেয়।  বিসিএসআইআর-এর জিনোমিক গবেষণাগারে একইসংগে  ২০ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকুয়েন্সিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্লেষণকৃত নমুনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে জানা যায় উক্ত নমুনা সমূহ ডেঙ্গু ভাইরাস সোরোটাইপ-৩ এর অন্তর্গত। ডেঙ্গু এর মিউটেশন বিষয়ক উল্লেখ্যযোগ্য গবেষণা না থাকায় এসব মিউটেশন ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমনের প্রভাব সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু নমুনা সমূহ শুধুমাত্র ঢাকার একটি হাসপাতাল হতে প্রাপ্ত, সেক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশ ডেঙ্গুর বিস্তৃতি জানার জন্য আরো জিনোম সিকুয়েসিং করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবন রহস্য উম্মোচনের ফলে সংক্রমিত সেরোটাইপ সনাক্ত করে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ, আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় সহায়তাকরণ, কাযর্করি একটি ডেঙ্গু ভাইরাস রোগ সনাক্তকরণ কিট ও ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

 



Share with :

Facebook Facebook