মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরন সভা।


প্রকাশন তারিখ : 2020-09-06

বিসিএসআইআর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রতিবেদন অবহিতকরন সভা। প্রধান অতিথি:  স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, মাননীয় মন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সভাপতি: অধ্যাপক ড. মোঃ আফতাব আলী শেখ, চেয়ারম্যান, বিসিএসআইআর

প্রেস-রিলিজ

যে কোন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের উৎপত্তি, বিস্তার ও চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য, রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীব এবং পোষকের জিনোম সিকোয়েন্স জানা অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশে জিনগত রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি ইয়াফেস ওসমান-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এ একটি আন্তর্জাতিকমানের জিনোমিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই গবেষণাগারটি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ জিনোমিক গবেষণাগার, যেখানে বিপুল সংখ্যক যেকোন জীবের নমুনা দ্রুততম সময়ে সিকোয়েন্সিং করা সম্ভব। চলমান বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারীতে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীগণ SARS-CoV-2 ভাইরাসের উৎস, গতিপ্রকৃতি ও বিস্তার নির্ণয়ের পাশাপাশি এই  ভাইরাসের ড্রাগ ও ভ্যাকসিন এর উপর গবেষণা করছেন। বাংলাদেশেও SARS-CoV-2 ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে জিনোম রিসার্চ ল্যাবরেটরি বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগ থেকে  সর্বমোট ৩০০ টি ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করার প্রকল্প গ্রহন করে। অত্র গবেষণাগারের গবেষক দলটি National Institute of Laboratory Medicine & Referral Centre, Bangladesh (NILMRC) এর সহযোগিতায় সারা দেশ থেকে  কোভিড পজিটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে এবং সেই সাথে রোগীর সকল প্রকার প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে পরিসংখ্যান নির্ভর বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে SARS-CoV-2 ভাইরাসের সংক্রমণ, মিউটেশনের হার, জিনগত বৈচিত্র, নন্-সিনোনিমাস মিউটেশন এবং জেনোমিক ফাইলোজেনি পর্যবেক্ষণ করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলকে কোভিড-১৯ মহামারী রোধে কার্যকর ভুমিকা পালনে যথাপোযুক্ত ব্যবহার করা। জিনগত বৈচিত্র পর্যবেক্ষণ করার জন্যে SARS-CoV-2 ভাইরাস এর সর্বমোট ২৬৩ টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়। এ নমুনা ৭ মে ২০২০ থেকে ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়।       

 প্রাপ্ত নমুনাসমুহের জিনোম সিকোয়েন্সিং  করে  আন্তর্জাতিক ডাটাবেস Global Initiative on Sharing All Influenza Data (GISAID)-এ প্রকাশ করা হয়।

 

 

 

গবেষণালব্ধ ফলাফলের সারসংক্ষেপ

  • সংগৃহীত নমুনায় শতভাগ ক্ষেত্রে আধিপত্যকারী ভ্যারিয়েন্ট “G614” (স্পাইক প্রোটিনে ৬১৪ তম অবস্থানে অ্যাসপার্টিক এসিডের পরিবর্তে গ্লাইসিন হওয়ার কারণ) এর উপস্থিতি পাওয়া যায় ।
  • প্রাপ্ত ২৬৩ টি SARS-CoV-2 ভাইরাসের মধ্যে ২৪৩ টি GR ক্লেড্, ১৬ টি GH ক্লেড্, ৩ টি G ক্লেড্ এবং ১ টি O ক্লেড্ এর অন্তর্ভুক্ত ।
  • ২৬৩টি SARS-CoV-2 জিনোম বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে সর্বমোট ৭৩৭ টি পয়েন্টে মিউটেশন হয়, যার মধ্যে ৩৫৮ নন্-সিনোনিমাস্ অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটায়। 
  •  এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত SARS-CoV-2 ভাইরাস এর মিউটেশনের হার বার্ষিক ২৪.৬৪ নিউক্লিওটাইড।
  • সারা বিশ্বে নমুনাপ্রতি মিউটেশন হার ৭.২৩ যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১২.৬০ লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ অন্য যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে SARS-CoV-2 ভাইরাসটি অনেক দ্রুতগতিতে এর রূপ পরিবর্তন করছে।  
  • স্পাইক প্রোটিনের জিনে ১০৩ টি নিউক্লিওটাইড মিউটেশনের মধ্যে ৫৩ টি নন্-সিনোনিমাস্ অ্যামিনো এসিড প্রতিস্থাপন ঘটে যার মধ্যে ৫ টি স্বতন্ত্র, যা বিশ্বের আর কোথাও পাওয়া যায়নি ।
  • সংগৃহীত নমুনাসমূহের মধ্যে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে ৪ টি মিউটেশনের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায় (241C>T, 3037C>T, 14408C>T, এবং 23403A>G)।

এ গবেষণালব্ধ ফলাফল ইতোমধ্যে প্রি-প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে, এ ছাড়াও কয়েকটি রিসার্চ পেপার আন্তর্জাতিক জার্নালে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। Sinovac Research and Development Co., Ltd., China, Moderna, USA, The University of Oxford, UK-সহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি কোভিড ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে যা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের সংক্রমিত কোভিড-১৯ এর উপযোগী ভ্যাকসিন উৎপাদনে সহায়তা করবে এবং বিসিএসআইআর তার অংশীদার হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

সমগ্র বিশ্বব্যাপি সর্বোচ্চ সংখ্যক কোভিড-১৯ এর যে ৫টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছে তার মধ্যে বিসিএসআইআর এর জিনোমিক রিসার্চ ল্যাব একটি, যা GISAID থেকে জানা যায়। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জিনোমিক রিসার্চ ল্যাব বলে গণ্য করা যায়।

 

 

জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরি, বিসিএসআইআর ও University of Melbourne, Australia-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিষয়ক গবেষণা চলমান আছে। এছাড়া University of Nottingham, UK, ICDDRB ও Marryland University, USA এর সাথে বিসিএসআইআর বিভিন্ন গবেষণায় যৌথভাবে যুক্ত আছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, মাননীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বিসিএসআইআর এর গবেষকদলের নিরলস প্রচেষ্টায় গবেষণাকর্মটি সুচারুরূপে সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং এ গবেষকদলটিকে।  বিসিএসআইআর এই গবেষণায় সকল ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছে NILMRC, Illumina চ্যানেল পার্টনার ইনভেন্ট টেকনোলজি লিমিটেড, সাইটেক কনসালটেন্সি লিমিটেড, GISAID-কে। একাজে প্রথম থেকে উৎসাহ ও সহযোগীতার জন্য সকল ধরনের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে বিসিএসআইআর এর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে।

 



Share with :

Facebook Facebook